নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত শর্মার বিরুদ্ধে ঢাকার পল্টন থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রথম মামলায় (সি.আর মামলা নং-১১৬৬/২০২৫) তাকে ৪২ নম্বর আসামি করা হয়, যেখানে ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পল্টনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলি করে সাহাবুদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পল্টন থানায় দায়েরকৃত দ্বিতীয় মামলায় (সি.আর. মামলা নং-১১৭৮/২৫) তাকে ৩৮ নম্বর আসামি করেছে। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায় মুশফিকুর রহমান আবীর (২৮) নামে এক ব্যক্তি অপহরণ, মুক্তিপণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শাহ জামাল ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
মামলার এজাহার ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে দেখা যায়, এতে সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী ও এমপিসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সুদীপ্ত শর্মা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগের গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) সাবেক সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকাবাসী ও একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকেই তিনি লন্ডন, যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।
এদিকে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগের মধ্যে ফেনীতেও সুদীপ্ত শর্মার বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। এছাড়া তিনি ফেনী জেলার ইসকনের (ISKCON) একজন সক্রিয় সদস্য এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্য সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
সুদীপ্ত শর্মাসহ এই মামলার অধিকাংশ আসামি পলাতক থাকায় এবং ৫ আগস্টের পর তাদের অনেকের বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটায় আইনি প্রক্রিয়া এখনও তার গন্তব্যে পৌঁছায়নি। উভয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। পল্টন মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আলামত সংগ্রহের পর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য বলে নিশ্চিত করেছেন।
সুদীপ্ত শর্মাসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ (খুন), ১৪৩ (অবৈধ সমাবেশ), ১৪৭ (দাঙ্গা), ১৪৮ (মারণাস্ত্র সহযোগে দাঙ্গা), ১৪৯ (অবৈধ সমাবেশের সদস্যদের দ্বারা অপরাধ), ৩৪ (সাধারণ অভিপ্রায়), ১০৯ (প্ররোচনা), ৩২৫/৩২৬/৩০৭ (আঘাত/খুনের চেষ্টা) সহ একাধিক ধারা যোগ করা হয়েছে।
মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম বিজ্ঞ আদালতে চলমান এবং পলাতক আসামিদের ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। দেশে ফিরলেই আইনের আওতায় এনে তার বিচার হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। এছাড়া ৫ আগস্টের পর থেকে ছাত্র জনতা তাকে খুঁজছে এবং তার সন্ধান চেয়ে তৌহিদি জনতা রাস্তায় পোস্টার ছাপিয়েছে।
নায়িকা দীঘির বিরুদ্ধে কোটি টাকার মামলা করবেন
স্বনামধন্য নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবি ‘তুমি আছো তুমি নেই’র পোস্ ...বিস্তারিত














